তালাক কখন কার্যকর হয়?

আমাদের সমাজে স্বামী তার স্ত্রীকে মুখে মুখে একই সাথে পর পর এক, দুই ও তিন তালাক দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশের আইনে এই তালাক গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকরী নয়। তালাক কার্যকর হয় তালাক দেওয়ার ৯০ দিন পর। তবে তার জন্য তালাকের আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। তালাক দেওয়ার নিয়মগুলো ঠিক মত অনুসরণ করে তালাক দিতে হবে। তালাকের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে অতিক্রম করলে ডিবোর্স সম্পন্ন হয়ে যাবে।

তালাকের নিয়ম

প্রথম কথা হচ্ছে, মুখে তালাক দিলে তা কার্যকর হবে না। আপনাকে বাংলাদেশের আইনে তালাকের নিয়ম জানতে হবে। আইনত মৌখিকভাবে তালাক দিলে তা কার্যকর হবে না।

  1. লিখিতভাবে তালাক দিতে হবে। লিখিত তালাক দেওয়ার সময় তালাক দাতা এবং স্বাক্ষীদের স্বাক্ষর লাগবে।
  2. সংশ্লিষ্ট নিকাহ ও তালাক রেজিস্টারের(কাজী অফিস) কাছে তালাক নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রার করতে হবে।
  3. তালাকের এফিডেভিড করতে হয়। যদিও ইহা না করলেও আইনত সমস্যা হবে না।
  4. যাকে তালাক দেওয়া হয়েছে তাকে তালাকের নোটিশ প্রদান করতে হবে। এছাড়াও ইউনিয়ন বা পৌরসভার চেয়ারম্যানকে নোটিশের কপি পাঠাতে হবে।
  5. চেয়ারম্যান উভয় পক্ষেকে সমঝোতা করার জন্য সালিশের ব্যবস্থা করবেন।

সালিশি পরিষদে সমঝোতা না হলে এবং তালাক দাতা ৯০ দিনের মধ্যে তালাক প্রত্যাহার না করলে তবে ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।

তালাক কার্যকরের দিন গণনা

তালাকের নোটিশ প্রদানের পর থেকে ৯০ দিন হিসাব করতে হবে। যেহেতু এই সময় তালাক কার্যকর হয়নি সুতরাং এই তিন মাস স্বামী তার স্ত্রীর খোরপোষ বা ভরনপোষনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে নব্বই দিন পর আর তা বহন করতে হবে না। তবে এখানে উল্লেখ্য তালাক প্রদানের সময় যদি স্ত্রী গর্ভবতী থাকে অথবা ইদ্দতকালীন সময়ের মধ্যে যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয় তাহলে তালাক কার্যকরের দিন গণনা হবে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে। অর্থাৎ সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে।

উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ হলে তালাক কার্যকর হবে। তালাক দেওয়ার পূর্বে এবং পরে অভিজ্ঞ উকিলের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে আইনি সমস্যায় পড়তে হবে না। আর তালাক কার্যকর হলে ডিবোর্স সার্টিফিকেট নেওয়া যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *