মনিটর কত প্রকার ও কি কি

আজ আমরা জানবো মনিটর কি ও এর প্রকারভেদ। টেলিভিশনের মত দেখতে কম্পিউটারের অংশটি হচ্ছে মনিটর। মনিটর (Monitor) একটি আউটপুট ডিভাইস। কম্পিউটারে যে কাজ করা হয় তা মনিটরে প্রদর্শিত হয়। যার মাধ্যমে স্ক্রিনে আমরা কিছু দেখতে পায় তা হলো ভিডিও কার্ড।

মনিটর কি

সাধারণত ডিসপ্লে ডিভাইস, সার্কিট, আবরণ, এবং পাওয়ার সাপ্লাই দিয়ে মনিটর গঠিত হয়। কম্পিউটারের প্রধান আউটপুট ডিভাইস(Output Device) হিসাবেই মনিটর বেশি ব্যবহার করা হয়। আমরা মনিটর বলতে টেলিভিশন মনে করলেও এর ধারণা ব্যাপক। এটি এমন একটি যন্ত্র যাতে সিস্টেমে চলমান প্রক্রিয়া সরাসরি দেখা যায়। কম্পিউটারের সিস্টেম ইউনিটের ভিতরে ভিডিও কার্ড দ্বারা তৈরি লেখা এবং গ্রাফিক্স মনিটরের স্কিনে প্রদর্শিত হয়। বর্তমানে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে মহাকাশ প্রযুক্তি সকল ক্ষেত্রে মনিটর ব্যবহৃত হয়।

মনিটর কত প্রকার ও কি কি

মনিটর সাধারণ দুই প্রকার। যথাঃ

  1. সি আর টি / ক্যাথোড রে টিউব মনিটর
  2. ফ্লাট প্যানেল মনিটর(এলসিডি, এলইডি)

সিআরটি মনিটর কি

CRT এর পূর্ণরূপ হলো Cathod ray tube. সি আর টি মনিটরে ভ্যাকিউম টিউব ব্যবহার করা হয়। রঙ্গিন মনিটরের জন্য আরও তিনটি অতিরিক্ত টিউব লাগানো হয়। এই মনিটরের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমনঃ

  • পিকচার টিউব ব্যবহৃত হয়।
  • ফসফরাসের প্রলেপ থাকে।
  • অধিক বিদ্যুৎ খরচ হয়।
  • আকার আকৃতিতে বড় এবং ওজনে ভারী।
  • মৌলিক রঙ তিনটি লাল, সবুজ ও নীল ব্যবহার হয়।
  • ইলেকট্রন গান ব্যবহার হয়।
  • ফোকাসিং এবং ডিফ্লেকশন কয়েল ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে এ মনিটরের ব্যবহার কমে গেছে। ক্যাথোড রে টিউব মনিটরের উদাহরণ হলো অতীতে ব্যবহৃত সাদা কালো / রঙ্গিন টেলিভিশনগুলো।

ফ্ল্যাট প্যানেল মনিটর কি

যে সকল মনিটরে কোন পিকচার টিউব থাকে না সেগুলো হলো ফ্লাট প্যানেল মনিটর। এর পর্দা সমতল। বর্তমানে এ ধরনের মনিটর বেশি ব্যবহার করা হয়। এতে ব্যবহার হয় (লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে) প্রযুক্তি। Flat Panel Display মনিটরের কিছু বৈশিষ্ট্য হলোঃ

  • বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হয়।
  • পিকচার টিউব ব্যবহার করা হয় না।
  • ক্রিস্টাল আলো বিকিরণ করে থাকে।
  • তথ্য প্রদর্শনের মান ভাল অনেক ভালো।
  • ওজনে হালকা ও পাতলা
  • আকার আকৃতিতে সিআরটি থেকে ক্ষুদ্র

ফ্ল্যাট প্যানেল ডিসপ্লের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এলসিডি মনিটর(LCD) ও এলইডি(LED) মনিটর। তবে বর্তমানে মাল্টি ফাংশনাল মনিটরসহ অনেক আধুনিক ফ্ল্যাট মনিটর বের হচ্ছে।

এলসিডি ও এলইডি মনিটরের পার্থক্য

LCD এর পূর্ণরূপ হলো Liquid Crystal Display আর LED এর পূর্ণরূপ হলো Light Emitting Diode। এলসিডি ও এলইডি প্রায় একই রকম দেখতে। মূল পার্থক্য হলো ব্যাকলাইটিং। স্কিনের পিক্সেলগুলো দেখা যাওয়ার জন্য এলসিডি মনিটরে ব্যবহার হয় ফ্লুরোসেন্ট টিউব আর অন্যদিকে এলইডি মনিটরে ব্যাকলাইট ব্যবহার করা হয়। LCD ও LED মনিটরের মধ্যে LED মনিটর তুলনামূলক বেশি ভালো। কারণ এই মনিটরের ছবির মান ভালো আসে। এতে বিদ্যুৎ কম খরচ হয়। এছাড়াও এলইডি মনিটর চোখের জন্য কিছুটা ভালো।

ভিডিও কার্ড, ক্যাবল কানেক্টর, স্কিন, পিক্সেল ও ডটপিচ

ভিডিও কার্ড কিঃ

ভিডিও কার্ড(Video Card) হলো এমন একটি সার্কিট বোর্ড যা কম্পিউটারের মাদারবোর্ডের এক্সপানশন স্লটে লাগানো থাকে। ভিডিও কার্ডের কাজ হলো কম্পিউটারে নির্দেশিত জিনিসকে লেখা ও ছবি আকারে মনিটরে প্রদর্শন করা। ভিডিও কার্ডকে ভিডিও এডাপ্টার বা গ্রাফিক্স কার্ডও বলা হয়ে থাকে।

ক্যাবল কানেক্টর কিঃ এমন একটি তার(ক্যাবল) যার সাহায্যে মনিটরকে ভিডিও কার্ডের সাথে সংযোগ দেয়া হয়।

স্ক্রিন কিঃ মনিটরের যে অংশে লেখা, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি দেখা যায় তাকে স্ক্রিন(Screen) বলে।

পিক্সেল ও ডট পিচ কিঃ পিক্সেল(Pixel) হলো স্ক্রিনের ক্ষুদ্র অংশ। আর ডট পিচ(Dot Pitch) বলতে পিক্সেলের মধ্যকার ফাক বা দূরত্বকে বুঝায়। পিক্সেলের মাঝে ডট পিচ কম হলে ছবির মান ভালো হয়।

কম্পিউটার মনিটরে টাচস্ক্রীন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার পর এর সুবিধা ও জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে গেছে। ফলে এখন বিভিন্ন প্রকার সুবিধা যুক্ত করে মনিটর তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে নতুন নতুন ফিচারযুক্ত উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ণ এবং মাল্টি ফাংশনাল মনিটর বাজারে আসছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *