কম্পিউটার ভাইরাস

কম্পিউটার ভাইরাস কি? কত প্রকার, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

VIRUS এর পূর্ণরূপ হল-Vital Information and Resources Under Siege.  ১৯৮৩ সালে ফ্রেড কোহেন কম্পিউটার ভাইরাসের নামকরণ করেন। কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের সফটওয়্যার যা তথ্য ও উপাত্তকে আক্রমন করে এবং নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। কম্পিউটার ভাইরাস এমন এক ধরনের ফাইল বা প্রোগ্রাম যেগুলো কম্পিউটারের স্বাভাবিক ফাইল বা প্রোগ্রামকে নষ্ট করে দিতে পারে। ইহা ব্যবহারকারীর অনুমতি ব্যতীত নিজেরা নিজেদের কপি তৈরি করতে পারে। সাধারণত সিডি, পেনড্রাইভ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাইরাস এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ে।

কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার ও কি কি

কম্পিউটার ভাইরাস বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত বা কমন এমন ৯ টি ভাইরাস হলোঃ

১. রিসাইডেন্ট ভাইরাস (Resident virus): এটিকে বাসিন্দা বা আবাসিক ভাইরাস বলা যায়। রিসাইডেন্ট ভাইরাস কম্পিউটারের র‌্যামে (RAM) বসবাস করে কম্পিউটারের সিস্টেমকে বাধাগ্রস্ত করে। এই ভাইরাস এতোই ছদ্মবেশে থাকে যে, এ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার থেকেও নিজেকে আড়াল করতে পারে।

২. মাল্টিপার্টাইট ভাইরাস (Multipartite Virus): মাল্টিপার্টাইট বা বহুদলীয় ভাইরাসটি পুরো সিস্টেমকে সংক্রমিত করে। ব্যবহারকারীর অনুমতিবিহীন কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে এটি অপারেটিং সিস্টেম, ফোল্ডার ও প্রোগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

৩. ডাইরেক্ট এ্যাকশন ভাইরাস (Direct Action Virus): এই ভাইরাসটি একটি নির্দিষ্ট ফাইলের ধরণকে লক্ষ্য করে সরাসরি কাজ করে থাকে। সাধারণত এগুলো এক্সিকিউটেবল ফাইল(.exe) হয়, ফাইলগুলোর প্রতিলিপি বা কপি তৈরি করে সংক্রমিত করে। তবে এই ভাইরাসের লক্ষ্যযুক্ত প্রকৃতির কারণে একে সনাক্ত ও দূর করা সহজতর।

৪. ব্রাউজার হাইজাকার (Browser Hijacker): এই ধরনের ভাইরাস ওয়েব ব্রাউজারকে সংক্রমিত করে, ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। এই ভাইরাস সহজেই সনাক্ত করা যায়।

৫. ওভাররাইড ভাইরাস (Overwrite Virus): একটি সিস্টেম সংক্রমিত হওয়ার পর, ওভাররাইট ভাইরাস তার নিজস্ব কোড দ্বারা ফাইলের কনটেন্টকে ওভাররাইট করা শুরু করে। এই ভাইরাস নির্দিষ্ট ফাইল বা এ্যাপ্লিকেশনকে টার্গেট করে সংক্রমিত করতে সক্ষম। ক্রমাগতভাবে এটি একটি ডিভাইসের সম্পূর্ণ ফোল্ডার ও ফাইলের ডাটা ধ্বংস করে দিতে পারে।

৬. ওয়েব স্ক্রিপটিং ভাইরাস(Web Scripting Virus): ইহা খুবই ছদ্মবেশী ভাইরাস। এগুলো একটি ওয়েবসাইটের লিংকস, এ্যাড, ইমেজ, ভিডিও এবং কোডের কোডিং এ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে। ব্যবহারকারীরা যখন এসব আক্রান্ত ফাইল ডাউনলোড করে কিংবা ওয়েব সাইট পরিদর্শন করে তখন এটি ডিভাইসকে সংক্রমিত করতে পারে।

৭. ফাইল ইনফেক্টর(File Infector): ফাইল ইনফেক্টর ভাইরাস এক্সিকিউটেবল ফাইলকে(.exe) টার্গেট করে থাকে। ব্যবহারকারী এই ফাইলকে রান করলে ভাইরাস প্রোগ্রামকে স্লো করে দিতে পারে এবং সিস্টেম ফাইলকে ড্যামেজ করে দিতে পারে।

৮. নেটওয়ার্ক ভাইরাস(Network Virus): নেটওয়ার্ক সংযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে এবং রিসোর্স শেয়ার করলে এরা নিজেদের কপি তৈরি করতে পারে।

৯. বুট সেক্টর ভাইরাস(Boot Sector Virus): এই ভাইরাস সহজে এড়ানো সম্ভব। এই ধরনের ভাইরাস সাধারণত পেনড্রাইভ বা ইমেলের ফাইলের সাথে নিজেদের লুকিয়ে রাখে। যখন এটি সক্রিয় হয় তখন সিস্টেমের ক্ষতি করার জন্য মাস্টার বুট রেকর্ডকে সংক্রমিত করতে পারে।

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণ বা প্রভাব

 কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণঃ যখন একটি কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যায় তখন এর কিছু লক্ষণ প্রকাশ প্রায়। এর মধ্যে কয়েকটি হলোঃ

  • ঘন ঘন পপ-আপ উইন্ডো আসাঃ পপ-আপ উইন্ডোগুলো আপনাকে কোন অস্বাভাবিক সাইট ব্রাউজ করতে উৎসাহিত করবে। কিংবা কোন সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম ডাউনলোড করতে প্ররোচিত করতে পারে।
  • হোম পেজ পরিবর্তনঃ আপনার ব্রাউজারের স্বাভাবিক হোমপেজ অন্য ওয়েবসাইটে পরিবর্তন হতে পারে। এমনকি আপনি ইহা পরিবর্তন করতেও অক্ষম হতে পারেন।
  • ইমেইল এক্সেসঃ অপরাধীরা আপনার ইমেইলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। লক্ষণ হিসাবে আপনার ইমেইল থেকে ব্যাপক হারে ইমেইল পাঠাতে পারে অথবা সংক্রমিত কম্পিউটার থেকে আপনার নামে ইমেইল পাঠাতে পারে।
  • ঘনঘন ক্র্যাশঃ কিছু ভাইরাস আপনার হার্ডডিস্কে বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করতে পারে। এর ফলে ডিভাইস ক্র্যাশ বা ডামেইজ হতে পারে। ডিভাইসকে পুণরায় চালু হতে বাধা দিতে পারে।
  • স্লো পারফরমেস্ঃ কম্পিউটারের গতি হঠাৎ কমে যেতে পারে। যার কারণে কম্পিউটার চালু হতে কিংবা কোন সফটওয়্যার রান করতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় নিবে। এছাড়াও প্রসেসর থেকে ভাইরাস আছে এরকম সংকেত দিতে পারে।
  • অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম চালুঃ কম্পিউটার স্টার্ট হওয়ার সাথে সাথে কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার চালু হতে পারে। যা টাস্ক ম্যানেজার উইন্ডোর অ্যাপ্লিকেশন মেনু থেকে দেখা যেতে পারে।
  • অনাকাঙ্খিত ঘটনাঃ যেকোনো ধরনের অনাকঙ্খিত ঘটনা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- আপনার কম্পিউটারের লগইন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন হতে পারে, ফাইল শর্টকাট হয়ে যেতে পারে, ফাইলের প্রতিলিপি তৈরি হতে পারে, ফাইল মিসিং, ড্রাইভ স্টোরেজ কমে যাওয়া, নেটওয়ার্ক ট্রাফিক বৃদ্ধি পাওয়া, এন্টিভাইরাস ইনএকটিভ হতে পারে ইত্যাদি।

কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়

ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সতর্কতা মেনে চলা। এজন্য সবসময় এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও উইন্ডোজ ডিপেনডার ফায়ার ওয়াল ব্যবহার করা যেতে পারে। পেনড্রাইভ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনভাবে স্ক্যান করে নিতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় পপ-আপ উইন্ডোতে ক্লিক করার আগে সচেতন হতে হবে। ইমেইলের কোন আটাচমেন্ট অপেনের আগে স্ক্যান করে নিতে হবে। ডাউনলোড করা ফাইল রান করার সময় সচেতন হতে হবে। পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারের করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাসওয়ার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে স্ট্রং পাসওয়ার্ড দিতে হবে। অপারেটিং সিস্টেম ও অন্যান্য সফটওয়্যার সবসময় আপ-টু-ডেইট রাখতে হবে।

মূলকথা হলো এন্টিভাইরাস সবসময় আপনাকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তাই কম্পিউটার ব্যবহারকারীকেই সচেতন থাকতে হবে। আর কোন কারণে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে গেলে অভিজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা তা অপসারণ বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *