চুলের যত্নে করণীয় ও বর্জনীয় (পর্ব – ৩)

উজ্জ্বল, প্রাণোবন্ত চুল সৌন্দর্যের একটি বড় অংশ এবং তা পাওয়া সবারই কাম্য। আমরা সকলেই নানাভাবে কমবেশি চুলের যত্ন নিয়ে থাকি। কিন্তু প্রতিদিনের কাজে নিজেদের করা কিছু ছোট ছোট ভুলে আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছি আমাদের চুলের স্বাস্থ্যকে। এ রকমই নিত্যকার কিছু সাধারণ ভুল এবং সেগুলো বর্জন করে করণীয় সম্পর্কে আমাদের ধারাবাহিক আলোচনার এটি শেষ পর্ব অর্থাৎ তৃতীয় পর্ব। culer zotne ki korte hobe

এ পর্বেও আমরা চুলের যত্নে তিনটি করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আসুন দেখে নেয়া যাক আজকের আলোচিত বিষয়াবলীঃ

চুলের যত্নঃ করণীয় ও বর্জনীয় (পর্ব–১)

চুলের যত্নঃ করণীয় ও বর্জনীয় (পর্ব–২)

সময়মত চুলের আগা কাটা

অনেক সময়ই আমরা এ বিষয়টি খেয়াল করিনা। চুলের আগা ফাটা রোধ করার উপায় সময়মত চুলের আগা কাটা। ছাঁটা সময়মত চুলের আগা ছাঁটলে চুল দ্রুত বাড়ে এবং আগা ফাটা সমস্যা রোধ করা যায়। কত সময় পর পর চুলের আগা ছাঁটতে হবে তা নির্ভর করে আপনি চুল নিয়ে প্রতিনিয়ত কি করছেন তার উপর। যারা প্রায় সময় চুল স্ট্রেইট করেন, আবার কখনও কার্লি করেন তাদেরকে কম সময়ের ব্যবধানেই চুল ট্রিম করতে হয়। কিন্তু যারা চুলে সাধারণ ব্লো-ড্রাই করেন বা তেমন একটা হেয়ার স্টাইল করেননা, তাদের চুল অত তাড়াতাড়ি ছাঁটতে হয়না। ভালোভাবে আপনার চুলের আগা খেয়াল করে দেখুন, যদি তা মসৃণ না থাকে তাহলে আগার ফাটা অংশটুকু ছেঁটে নিন। culer aga catar niom

হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার করা

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় মেয়েদের বিভিন্ন রকম হেয়ারস্টাইল করতে দেখা যায়। অনেক সময় চুলের ভলিয়ম বাড়ানোর জন্য চুলে হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার করে মেয়েরা। কিন্তু এটি চুলে লাগিয়ে চুল আচড়ানোর সময় চুল ভেঙ্গে যেতে পারে। নিজে নিজে এটি চুল থেকে খুলতে গেলেও টান লেগে চুল ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। তাই এটি চুল থেকে খোলার সময় এক্সপার্ট কারও সাহায্য নেয়াই ভালো যাতে করে চুল ছেঁড়ার পরিমাণ কম হয়। You must be proper use of hair extensions.

তবে হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার না করাই সবচেয়ে ভালো। তার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের ক্লিপ পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

বার বার চুলে রঙ করা

ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে চুলে রঙ করা বর্তমানের ট্রেন্ড। সোনালী, মেরুন, মেহগনি, লালসহ বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করার চল দেখা যায়। কিন্তু অনেককেই প্রথমে একটি শেড ব্যবহার করে পরে সেটিতে আর খুশি থাকতে পারেননা। ফলে চুলের কালার শেড পরিবর্তন করতে চান। এক্ষেত্রে প্রথমে আগের শেড রিমুভ করতে হয়। এটি সাধারণত ব্লিচ করে করা হয়, ফলে চুলে একটি অপ্রত্যাশিত শেড তৈরি হয়। তাই চুলে আবার প্রত্যাশিত শেড পেতে নতুনভাবে কালার করতে হয়। আর এই সমস্ত প্রক্রিয়াটিই কিন্তু চুলের জন্য খুবই স্ট্রেসফুল। চুল রঙ করা চুলের যত্নে ক্ষতিকর।  তাই চুলে বার বার কালার করা অনুচিত। cul rong korar niom

এমন আরও অনেক ছোটখাট বিষয় আছে যেগুলো জানলে এবং মেনে চলার চেষ্টা করলে আমরা অনায়াসে হতে পারি স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, ঝলমলে চুলের অধিকারী। বেশ কিছু বিষয় আছে যেগুলো আমরা আসলে চলতি ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবেই করে ফেলি, অথচ সেসব কাজগুলোই হয়তো কোন না কোনভাবে ক্ষতির কারণ হয়ে যাচ্ছে আমাদের চুলের জন্য। এরকম কাজগুলো কিন্তু আমরা চাইলেই এড়িয়ে চলতে পারি। আর সবাইকে বিষয়গুলো আরও একবার মনে করিয়ে দেয়াই আমাদের এ ধারাবাহিক আলোচনার উদ্দেশ্য। আশা করছি সকলেই উপকৃত হবেন এবং লেখাগুলো শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরও জানতে সাহায্য করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *