চুলের যত্নে করণীয় ও বর্জনীয় (পর্ব–২)

সুন্দর, ঝলমলে, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পাওয়া সকলের আরাধ্য বিষয়। সেজন্য আমদের চেষ্টাসাধনারও অন্ত নেই। চুলের যত্ন নিতে হয় প্রতিনিয়ত। আর বেশিরভাগ মানুষই সাধ্যমত সে চেষ্টা করেও থাকেন। কিন্তু আমাদের নিত্যদিনকার কাজের মধ্যেই বেখেয়ালে এমন কিছু কাজ আমরা করে ফেলি যা আমাদের চুলের পক্ষে ক্ষতিকর। অজান্তে হয়ে যায় বলে বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সচেতন হওয়াও হয়ে উঠেনা। আজকের আলোচনা সে রকম সাধারণ কিছু ভুল বর্জন করে করণীয় সম্পর্কেই।

একই শিরোনামে পর্ব-১ এ তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিলো। আজ পর্ব-২ এ আরও তিনটি বিষয় আলোচনা করবো।

আসুন দেখে নিই আজকের আলোচনাঃ

 

আঁটসাঁট করে চুল বাঁধা

 

আঁটসাঁট করে চুল বাঁধা

বিভিন্ন স্টাইলে চুল বাঁধা ফ্যাশনের একটি অংশ। চলতি ফ্যাশনে আমাদের দেশের অনেক মেয়েকে আফ্রো-আমেরিকান মেয়েদের অনুসরণে আঁটসাঁট ভাবে চুলে ঝুঁটি বা বেণী করতে দেখা যায়। কিন্তু টানটান করে শক্তভাবে চুল বাঁধলে বা চুলে শক্তভাবে হেয়ারব্যান্ড বা ক্লিপ পরলে খোলার সময় জোরে টান পড়ে চুল ছিঁড়ে বা ভেঙ্গে যেতে পারে। চুলের ফলিকলের উপর অতিমাত্রায় টান পড়লে স্থায়ী চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে যাকে ট্র্যাকশন এলোপেসিয়া বলে।

অনেক সময় ছেলেদেরকেও চুলে হেয়ারপিস ব্যবহার করতে দেখা যায়। এর ফলে ছেলেদেরও চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতএব, মেয়ে হোক বা ছেলে হোক, চুল শক্ত করে বাঁধা বা চুলে শক্তভাবে হেয়ারব্যান্ড, ক্লিপ বা হেয়ারপিস লাগানো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করাই শ্রেয়।

 

চুল সোজা করতে আয়রনের ব্যবহার

চুল সোজা করতে আয়রনের ব্যবহার

বেশিরভাগ মেয়েরাই চুল সোজা করতে ও চকচকে ভাব আনতে ফ্ল্যাট আয়রন ব্যবহার করে থাকে। অথচ আয়রনের উচ্চমাত্রার তাপ চুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। উচ্চ তাপমাত্রায় চুল আয়রন করলে তা শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে, ফলে চুল হয়ে পড়ে নিস্তেজ ও প্রাণহীন! চুলে আয়রন যদি করতেই হয় তাহলে আয়রনের তাপমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে চুলের অবস্থা ও ঘনত্ব বুঝে। আয়রন করার সময় শুরুতে তাপমাত্রা অবশ্যই কম রাখতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট সেটিং এ নিয়ে যেতে হবে যেটি চুলের পক্ষে সবচেয়ে ভালো। তবে কখনোই তাপমাত্রা খুব উচ্চমাত্রায় সেট করা উচিত নয়।

 

ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে চুলের সুরক্ষা

ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে চুলের সুরক্ষা

আমাদের ত্বকের মত চুলও ক্ষতিকর সূর্যরশ্মির প্রভাবে ড্যামেজ হতে পারে। বিশেষ করে যারা চুলে কালার করেন, তাদের চুলের রঙ সহজেই সূর্যরশ্মির প্রভাবে মলিন হয়ে পড়তে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই চুলকে সান-প্রোটেক্টেড করে বের হতে হবে। এক্ষেত্রে চুলকে স্কার্ফ বা ওড়না দিয়ে ঢেকে নেয়া যায়। আবার আজকাল অনেকেই বিভিন্নরকম স্টাইলিশ হ্যাটও ব্যবহার করছেন যা একটি সুন্দর ফ্যাশনের অংশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

আরও একটি বিষয়েও সচেতন হওয়া জরুরী যেটি হলো, যাদের বিভিন্ন সময় সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা হয়, তাদের চুলের জন্য পুলের ক্লোরিনেটেড ওয়াটার ক্ষতিকর। অতএব, তাদেরও পুলে নামার আগে বাথিং ক্যাপ পরে নেয়া উচিত বা সাঁতার শেষে ভালোভাবে চুলের পানি শুকিয়ে নেয়া উচিত। তা না হলে পুলের ক্লোরিনযুক্ত পানির প্রভাবে চুল ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে।

খুব সাধারণ কিছু পদক্ষেপ এবং একটু সচেতনতা আমাদের সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান চুলকে করে তুলতে পারে উজ্জ্বল, প্রাণোবন্ত! কিছু সাধারণ দৈনন্দিন ভুল সম্বন্ধে জেনে সেগুলো বর্জন করে করণীয় বিষয়েই আমরা তিন পর্বে ধারাবাহিক আলোচনা করেছি। চুলের যত্নে এ বিষয়গুলোর আলোচনায় আশা করছি পাঠকেরা উপকৃত হচ্ছেন। লেখাগুলো শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরও উপকৃত হতে সাহায্য করবেন নিশ্চয়।

চুলের যত্নঃ করণীয় ও বর্জনীয় (পর্ব–৩)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *