ত্বকের ক্যান্সার কি এবং এটি কেনো হয়?

ক্যান্সার – একটি প্রাণঘাতী ব্যাধির নাম। আজকাল দেহের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন অনেক মানুষ। বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তন, পরিবর্তিত আবহাওয়া, খাদ্যের ভেজালসহ বিভিন্ন রকম দূষণের কারণে এ রোগটি আজ অনেকটা মহামারী আকার ধারণ করেছে।

মানুষ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, যার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ত্বকের ক্যান্সার। এ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফর্সা ও লাল চুলের অধিকারীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও ৩০-৫১ বছর বয়ঃসীমার মধ্যে এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।

সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মিকে এই ক্যান্সারের মূল কারণ বলা হলেও অনেক সময় মানুষের অজ্ঞতা ও অসচেতনতাই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজ আমাদের পাঠকদের জন্য ত্বকের ক্যান্সারের বিভিন্ন বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো যাতে করে অজানা বিষয়গুলো জেনে নিয়ে এ ব্যাপারে তাঁরা সচেতন হতে পারেন।

ত্বকের ক্যান্সার কি?

ত্বকের ক্যান্সার হলো ত্বকে হওয়া একধরনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। অথবা সহজ কথায় বলা যায়, ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই হলো ত্বকের ক্যান্সার। শরীরের বিভিন্ন খোলা অংশে যেমন মুখ, গলা, হাত, পা, পিঠ ইত্যাদিতে এ ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সব ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার হার বেশি। ধরনের উপর ভিত্তি করে ত্বকের ক্যান্সারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন,‍‌ বেসাল সেল কার্সিনোমা (BCC), স্কোয়ামাশ সেল কার্সিনোমা (SCC), ম্যালানোমা ইত্যাদি। এর মধ্যে BCC সাধারণ ও সবচেয়ে বেশি হতে দেখা যায়। শরীরের খোলা অংশগুলোতে এ ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। SCC অনেকটা BCC এর মত এবং এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মুখগহ্বরের ভেতরে, ঠোঁটে, গোপনাঙ্গের কাছাকাছি ইত্যাদি স্থানে হয়ে থাকে। আর ম্যালানোমা হয়ে থাকে আঁচিল থেকে। এটি সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা।

কেন হয়?

সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মিকেই ত্বকের ক্যান্সারের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে প্রখর সূর্যতাপে কোন প্রোটেকশন ছাড়া অবস্থান করলে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এটি ছাড়াও আরও কিছু ফ্যাক্টর এ ক্ষেত্রে কাজ করে। যেমন-

  • বংশগত কারণেও এ রোগ হতে পারে।
  • কোনরূপ রেডিয়েশন এর কাছাকাছি বেশিক্ষণ অবস্থান করলে, যেমন কারও যদি চিকিৎসাজনিত কারণে খুব বেশি এক্সরে করাতে হয় (যদিও এক্সরে এর কারণে ত্বকের ক্যান্সার হতে অনেক বছর সময় লাগে)।
  • এমন কোন রোগে আক্রান্ত হওয়া যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় যেমন- Lymphomia, HIV ইত্যাদি।
  • মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়া শরীরের কোন স্থান বেশিক্ষণ যাবৎ সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির মধ্যে থাকলে।
  • ধূমপানের কারণে এবং
  • আর্সেনিকের কারণেও ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।

উপরোল্লিখিত বিভিন্ন ফ্যাক্টরগুলো ত্বকের ক্যান্সারের জন্য দায়ী হলেও যেহেতু সূর্যের আলট্রা ভায়োলেট রে কেই এর জন্য দায়ী বলা হয় সবচেয়ে বেশি, তাই সর্বপ্রথমেই সূর্যের আলোতে বেশিক্ষণ থাকা বর্জন করতে হবে। আর বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে হবে। সানস্ক্রিন লোশনের SPF (Sun Protection Factor) আলট্রা ভায়োলেট রে কে ত্বকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। তাছাড়া অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলোর বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। তাহলে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে বেঁচে থাকা যাবে বলে আশা করা যায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *