মৎস্য সংরক্ষণ আইন

আমরা ‘মাছে ভাতে বাঙ্গালী’ কিন্তু দিনে দিনে আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর সেই সাথে বাড়ছে মাছের চাহিদা। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিভিন্ন দেশের জলাশয় থেকে জেলেরা প্রায় ছোট বড় সব মাছই ধরছে।পোনা মাছ ও প্রজননক্ষম মাছও এ থেকে রেহায় পাচ্ছে না।ফলে আমাদের বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে মাছ উৎপাদন অনেক কমে যাচ্ছে। এই উৎপাদন হ্রাস ঠেকাতে এবং মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করে ১৯৫০ সালে “মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন-১৯৫০” আরোপ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে আইনটি সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করেন।এই আইনের উল্লেখযোগ্য বিধিসমূহ হলো-

১. চাষের উদ্দেশ্য ব্যতীত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রতি বছরঃ

ক. জুলাই হতে ডিসেম্বর (আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি হতে পৌষ মাসের মাঝামাঝি) মাস পর্যন্ত  ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) নিচের কাতলা, রুই, মৃগেল, কালবাউস, ঘনিয়া;

খ. নভেম্বর হতে মে (কার্তিক মাসের মাঝামাঝি হতে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি) মাস পর্যন্ত  ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) নিচের ইলিশ (যা “জাটকা” নামে পরিচিত);

গ. নভেম্বর হতে এপ্রিল (কার্তিক মাসের মাঝামাঝি হতে বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি) মাস পর্যন্ত  ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) নিচের পাঙ্গাশ;

ঘ. ফেব্রুয়ারি হতে জুন (মাঘ মাসের মাঝামাঝি হতে আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি) মাস পর্যন্ত  ৩০ সেন্টিমিটারের (১২ ইঞ্চি) ছোট আকারের সিলন, বোয়াল ও আইড়;

এসব মাছ ধরা, নিজের দখলে রাখা, পরিবহন বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ।

২. চাষের উদ্দেশ্য ব্যতীত সাধারণভাবে নদী-নালা, খাল-বিলে সংযোগ আছে জলাশয়ে প্রতি বছর ১লা এপ্রিল থেকে ৩১শে আগষ্ট (চৈত্র মাসের মাঝামাঝি হতে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি)পর্যন্ত শোল, গজার, টাকি মাছের পোনার ঝাঁক বা মাছ ধরা ও ধ্বংস করা যাবে না।

৩. জলসেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা নর্দমার উদ্দেশ্য ব্যতীত নদী-নালা, খাল এবং বিলে অস্থায়ী বা স্থায়ী বাঁধ বা কোনোরূপ অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না।

৪. নদী-নালা, খাল-বিলে স্থায়ী স্থাপনার মাধ্যমে (ফিক্সড ইঞ্জিন) মৎস্য আহরণ করা যাবে না, এরূপ ক্ষেত্রে স্থায়ী স্থাপানা অপসারণ এবং বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

৫. অভ্যন্তরীণ জলাভূমিতে বিষ প্রয়োগ, পরিবেশ দূষণ, বাণিজ্যিক বর্জ্য বা অন্যবিধ উপায়ে মাছ ধ্বংসের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।

৬. মাছ ধরার ক্ষেত্রে ৪.৫ সেন্টিমিটার বা তদপেক্ষা কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যের ফাঁস বিশিষ্ট ফাঁসজাল (প্রচলিত নাম- কারেন্ট জাল) ব্যবহার নিষিদ্ধ।

৭. ইলিশ অভয়াশ্রম সংরক্ষণঃ সরকার ঘোষিত ইলিশ অভয়াশ্রম এলাকায় বছরের নির্ধারিত সময়গুলোতে কোন ব্যক্তি কোনো মাছ ধরতে বা ধরার কারণ সৃষ্টি করতে পারবে না।

৮.  ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণঃ ইলিশ মাছের অবাধ প্রজননের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রজনন ক্ষেত্রগুলোতে প্রতি বছর ১৫-২৪শে অক্টোবর (১-১০ই আশ্বিন) ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ।

৯. শাস্তিঃ

(ক). প্রথমবার আইন ভঙ্গকারীর শাস্তি হবে কমপক্ষে ১ মাস হতে সর্বোচ্চ ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তৎসহ সর্বোচ্চ ১০০০/- টাকা জরিমানা।

(খ). পরবর্তীতে প্রতিবার আইন ভঙ্গকারীর শাস্তি হবে কমপক্ষে ২ মাস হতে সর্বোচ্চ ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং তৎসহ সর্বোচ্চ ২০০০/- টাকা জরিমানা।

আইন মেনে মৎস্য সংরক্ষণ করুন। মৎস্য উৎপাদনে সহায়তা করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *