চোখের যত্ন নেওয়ার উপায়

কথায় বলে ‘চোখ থাকিতেই অন্ধ’। আসলে চোখ থাকলেও যদি দেখার দৃষ্টিশক্তি না তার চেয়ে কষ্ট আর কি হতে পারে!বিভিন্ন কারণে আমাদের চোখে ব্যাথা, চোখে কম দেখা, চোখে ঝাপসা দেখা, চোখের সমস্যা থেকে মাথা ব্যাথা, দূরে না দেখা, কাছে না দেখা ইত্যাদি হয়ে থাকে।এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন নিয়মিত চোখের যত্ন নেওয়া।

চোখের ডাক্তারের কাছে যাওয়া

চোখের মত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সমস্যা নিয়ে অলসতা না করে চোখের ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। এছাড়া সাধারণত ৬ মাস বা ১ বছর পর পর ডাক্তারের কাছে গিয়ে চোখের পাওয়ার ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা উচিত।

সঠিক আলোতে পড়ালেখা করা

শিশুর চোখের যত্ন

পড়া-লেখা করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন আলো কম না হয়। কম আলোতে পড়লে বা লিখলে চোখের উপর চাপ পড়ে। চোখের জন্য আরামদায়ক আলোতে পড়াশুনা করতে হবে।

কম্পিউটার ব্যবহারে চোখের যত্ন

কম্পিউটার

আমরা যারা কম্পিউটারে কাজ করি তাদেরকে চোখের যত্নে বেশি মনোযোগী হতে হবে। কম্পিউটার স্ক্রিনের ব্রাইটনেস এমনভাবে রাখতে হবে যাতে আপনার পরিবেশের আলোর সাথে মিল থাকে। অধিক আলো থাকলে ব্রাইটনেস বেশি রাখতে হয় আর কম আলোতে ব্রাইটনেস কম রাখতে হয়। এছাড়াও কম্পিউটার ব্যবহারে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে-

  • একটানা কাজ না করে ৩০ মিনিট পর পর ৫ বা ১০ মিনিট বিরতি দিতে হবে।
  • কাজের সময় মাঝে মাঝে চোখের পলক বা চোখের পাতা ফেলতে হবে।
  • কম্পিউটার স্ক্রিন বা মনিটর চোখ বরাবর রাখতে হবে। যেন চোখ উচু বা নিচু করে কিংবা ঘাড় বাঁকা করে তাকাতে না হয়।
  • মনিটর খুব কাছে বা অতি দূরে না রেখে আপনার বসার স্থান থেকে ১ হাত দূরত্বে রাখা উচিত।

মাদক সেবন থেকে দূরে থাকা

সিগারেট, মদ, গাঁজা, ইয়াবা ইত্যাদি মাদক বা মাদক জাতীয় দ্রব্য শরীর এর জন্য ক্ষতিকারক। চোখের বিভিন্ন সমস্যা মাদকের কারণে হয়ে থাকে। তাই মাদক থেকে দূরে থাকুন, মাদক সেবন পরিহার করুন।

রাত জাগা পরিহার করা

গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থেকে পড়াশোনা না করে দিনে পড়াশুনা বেশী করা উচিত। দিনের বেলায় পড়া-লেখা করা চোখের জন্য উপকারী। রাত জেগে টিভি দেখা, ফেসবুকে চ্যাট করা, মোবাইলে মুভি দেখা, গেমস খেলা ইত্যাদি চোখের জন্য হুমকিস্বরূপ। অনেকে ফেসবুকে চ্যাটিং করতে করতে ভোর হয়ে যায়। সুস্থ্য চোখের জন্য রাত জাগা পরিহার করতে হবে।

চোখের বিশ্রাম

চোখের বিশ্রাম সেটা আবার কি? আমরা যখন দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকি তখন আমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই নির্দিষ্ট সময় পর পর চোখকে বিশ্রাম বা আরাম দিতে হয়। চোখের বিশ্রামের জন্য আমরা যা করতে পারি তা হলো-

  • চোখের বিশ্রামের সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি হলো শুয়ে থাকা।
  • মাঝে-মাঝে পানি দিয়ে চোখ-মুখ ধোয়া।
  • দুই হাতের তালু একত্র করে কিছুক্ষণ চোখের উপর ধরে রাখা।
  • চোখের পলক ফেলা।
  • কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রাখা।
  • সবুজ গাছপালা বা প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা চোখের জন্য আরামদায়ক।

চশমার সঠিক ব্যবহার

চোখের ডাক্তার দেখানোর পর যদি চশমা ব্যবহার করতে বলে তাহলে সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করতে হবে। ডাক্তার যদি বলে নিয়মিত ব্যবহার করতে তবে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় চোখের পাওয়ারের ক্ষতি হতে পারে। আর যদি শুধু পড়া-লেখার সময় ব্যবহার করতে বলে তবে সেভাবে ব্যবহার করতে হবে। কিছুদিন চশমা ব্যবহার বন্ধ করে আবার পরে ব্যবহার এরকম করা উচিত নয়।

চোখের ড্রপ ব্যবহার

চোখের ভিতরে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু থেকে রক্ষা পেতে চোখের ডাক্তারের পরামর্শে চোখের ড্রপ ব্যবহার করা উচিত। কিছু চোখের ড্রপ আছে যা ব্যবহারের পর চোখে জলন অনুভূত হয়। আবার কিছু চোখের ড্রপ ব্যবহারের পর মুখে তিতো লাগে। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সাধারণত চোখের ড্রপের মুখ খোলার ১ মাসের ভিতরে ব্যবহার করতে হয়। ১ মাস পর অবিশিষ্ট অংশ ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে ইহা ড্রপের গায়ে লিখা থাকলে। চোখের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ড্রপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

চোখ আমাদের শরীরের অমূল্য সম্পদ এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত। আমাদের অসচেতনতায় যেন এই সম্পদের ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্থান, কাল ও ব্যক্তিভেদে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা থাকতে পারে। এজন্য অভিজ্ঞ চোখের ডাক্তারের পরামর্শ মত চলতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *