গাড়ির হর্ণ বাজানো

গাড়ির হর্ণ দূর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি কোন গাড়ির অবস্থান। তবে বিনা প্রয়োজনে বা যেখানে সেখানে হর্ণ বাজানো উচিত নয়। কেননা হর্ণ বাজানোর ফলে শব্দ দূষণ হয়।

যেখানে হর্ণ বাজানো নিষেধ

  • যেখানে হর্ণ বাজানো নিষেধ সাইন আছে।
  • স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশে-পাশে হর্ণ বাজানো যাবে না। কেননা এতে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখায় মনোযোগ নষ্ট হয়।
  • মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি উপাসনালয়ের আশে-পাশে হর্ণ বাজানো নিষেধ। এসব স্থানে হর্ণ বাজালে প্রার্থনায় ব্যাঘাত ঘটে।
  • হাসপাতাল এলাকায় হর্ণ বাজানো যাবে না। এখানে হর্ণ বাজালে রোগীর ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
  • অফিস-আদালত এলাকায় হর্ণ বাজানো নিষেধ। কেননা এসব স্থানে হর্ণ বাজালে স্বাভাবিক কাজের ব্যাঘাত ঘটে।
  • রাত ১১.৩০ মিনিট থেকে সকাল ৭.৩০ মিনিট পর্যন্ত আবাসিক এলাকায় হর্ণ বাজানো নিষেধ। কেননা এসময় সবাই ঘুমে থাকে।
  • ভি আই পি এলাকায় এবং যেসব স্থানকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব নির্দিষ্ট স্থানে হর্ণ বাজানো যাবেনা।
  • সেনানিবাস বা কোন সংরক্ষিত এলাকায় হর্ণ বাজানো যাবে না।

এসব স্থানে গাড়ির হর্ণ বাজানো নিষেধ। এসব স্থানের চতুর্দিকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় হর্ণ বাজানো থেকে বিরত থাকি। তবে বিশেষ করে যেখানে হর্ণ বাজানো নিষেধ চিহ্ন আছে সেখানে হর্ণ বাজানো যাবে না।

যেখানে হর্ণ বাজানো প্রয়োজন

কিছু স্থান আছে যেখানে অবশ্যই হর্ণ বাজাতে হবে। কেননা এসব স্থানে হর্ণ না বাজালে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন কয়েকটি স্থান হলোঃ-

  • অন্ধ মোড়েঃ রাস্তার এমন মোড় যার অপর পাশ থেকে আগত গাড়ি দেখা যায় না এইসব মোড়ে অবশ্যই হর্ণ বাজাতে হবে। তাহলে অপর পাশ থেকে আগত গাড়ির চালক বুঝতে পারবে কোন গাড়ি বিপরীত দিক থেকে আসতেছে।
  • কড়া বাঁকেঃ কিছু রাস্তার বাঁক বিপদজনক। তাই এসব বাঁকে হর্ণ বাজাতে হবে। তা নাহলে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
  • ওভারটেকিং করার সময়ঃ দূর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ অবৈধ বা বিপদজনক ওভারটেকিং। ওভারটেকিং করার সময় অবশ্যই হর্ণ বাজাতে হবে। আর রাতের বেলায় আপার-ডিপার ব্যবহার করতে হবে।
  • বাজার বা জংশনেঃ সাধারণত বাজার এলাকায় বা জংশনে প্রচুর লোকজন থাকে। এসব স্থানে রাস্তায় পথচারী এলোমেলোভাবে হাঁটাচলা করে। তাই এসব স্থান অতিক্রম করার সময় সাবধানতার পাশাপাশি অবশ্যই হর্ণ বাজাতে হবে।

নিষিদ্ধ হর্ণের ব্যবহার করা যাবে না

গাড়িতে নিষিদ্ধ হর্ণ বা শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র লাগানো ও ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার করা যাবে না। তবে কেউ যদি এই আইন অমান্য করে তবে মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী ১০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।

আসুন শব্দ দূষণ ও দূর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়ম মেনে যথাস্থানে হর্ণ বাজায়। যেসব স্থানে হর্ণ বাজানো নিষেধ যেসব স্থানে হর্ণ বাজানো থেকে বিরত থাকি। প্রয়োজনীয় স্থানে হর্ণ বাজায়। হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার বন্ধ করি। আইন মেনে চলি, দূর্ঘটনা মুক্ত থাকি।

Leave a Comment

Your email address will not be published.