কিডনি রোগের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার

আজ আমরা জানবো কিডনি রোগের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার। কিডনি রোগীর খাবার কি? কিডনি(বৃক্ক) আমাদের শরীরের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর প্রধান কাজ দেহের রক্ত পরিশোধন করা এবং দেহে পানি এবং ক্ষার এর চাহিদা বজায় রেখে মূত্র তৈরী করা। কিন্তু নানা কারণে এ কিডনি অচল হয়ে যেতে পারে। তবে তার পূর্বে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়।

1. বৃক্কীয় পিরামিড 2. আন্তঃলবিউলার ধমনী  3. বৃক্কীয় ধমনী  4. বৃক্কীয় শিরা 5. বৃক্কীয় হাইলাম  6. বৃক্কীয় পেলভিস  7. মূত্রনালি  8. ছোট ক্যালিক্স  9. বৃক্কীয় ক্যাপসুল  10. নিম্নস্থ বৃক্কীয় ক্যাপসুল  11. উপরস্থ বৃক্কীয় ক্যাপসুল  12. আন্তঃলবিউলার শিরা  13. নেফ্রন  14. ছোট ক্যালিক্স  15. বড় ক্যালিক্স 16. বৃক্কীয় প্যাপিলা  17. বৃক্কীয় কলাম

কিডনি রোগের লক্ষণঃ

প্রতিটি রোগের পূর্বে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে। কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো হলো:

১. প্রস্রাবের পরিমান খুব কম বা খুব বেশি হওয়া।
২. প্রস্রাবের সময় কষ্ট বা জ্বলাতন অনুভব করা। ফোঁটা ফোঁটা করে প্রস্রাব হওয়া। প্রস্রাবে অস্বাভাবিক কিছু আসা। যেমন- রক্ত, পুঁজ ইত্যাদি।
৩. অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপ বা রক্ত স্বল্পতা।
৪. সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে চোখ, মুখ বা পা ফুলে যাওয়া।
৫. সামান্য কোন কাজ করার পরে শ্বাস কষ্ট হওয়া বা অতি ক্লান্তি অনুভব করা।
৬. সব সময় শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করা।
এছাড়া অবস্থাবেদে নানা কারণ পরিলক্ষিত হয়। এগুলো কিডনির সমস্যার প্রাথমিক লক্ষন।

কিডনি রোগের কারণঃ

আমাদের কিছু অভ্যাসের কারণে কিডনিতে সমস্যা হয়ে থাকে। এগুলো কিডনিতে রোগের অন্যতম কারণ। এছাড়াও যেসকল কারনে কিডনি রোগ হয়ে থাকে তা নিচে দেওয়া হলো।

১. প্রস্রাব আটকে রাখা।
২. পরিবারে বংশানুগতিক কিডনি রোগ থাকলে।
৩. অতিরিক্ত ব্যথার ওষুধ সেবন করা।
৪. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করা।
৫. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া।
৬. পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া।
৭. অতিরিক্ত মদ পান করা।
৮. যেকোন সংক্রমণের দ্রুত চিকিৎসা না করা।
৯. ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে।
১০. ওষুধ সেবনে অনিয়ম করা।

এগুলো কিডনী কিডনি ইনফেকশনের মূল কারণ।

কিডনি রোগের প্রতিকারঃ

রোগ প্রতিকার করা কঠিন হলেও প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ ধরা পড়লে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য ডাক্তারের কথা মেনে চলতে হবে। তাহলে কিডনি রোগের প্রতিকার করা যাবে।

১. প্রতিদিন ৩ লিটার পানি পান করা। তবে যাদের শরীরে ফুলা ভাব আছে তারা পরিমাণ মত পানি পান করা।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শরীরচর্চা করা।
৩. যাদের বয়স ৪০ এর বেশি তাদের খাবারে নুনের মাত্রা কমিয়ে ফেলা।
৪. ধূমপান, তামাক, মদ বা নেশা জাতীয় যাবতীয় কিছু পরিহার করা।
৫. ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের রাখা।
৬. অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ সেবন না করা।
৭. খাবারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা।

এগুলো কিডনি ভালো রাখার অন্যতম উপায়। কিডনিতে ইনফেকশন হলে প্রাথমিকভাবে এগুলো করনীয়।

কিডনি রোগী যা যা খেতে পারবেঃ

বৃক্ক সমস্যা ধরা পড়লে খাবারের বিষয় সর্তক হতে হবে। জানতে হবে কিডনি রোগীর খাবার কি? কিডনি রোগী কি খেতে পারবে আর কি খেতে পারবে না।

১.সবজিঃ পটল, শশা, ডাটা, লাউ, চাল কুমড়া, সাজনা, করলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, পেঁপে, ধুন্দল।
২.শাকঃ ডাটা শাক, লাল শাক, কলমি শাক, কচু শাক।
৩.ফলঃ পরিমাণ মত খাওয়া।

কিডনি রোগী যা যা খেতে পারবে নাঃ

১.সবজিঃ ফুলকপি, বাধাকপি, গাজর, ঢেঁড়স, শীম, বরবটি, কাঁঠালের বীচি, শীমের বীচি, মিষ্টি কুমড়ার বীচি, কচু, মুলা।
২.শাকঃ পালং শাক, পুঁই শাক, মুলা শাক।
এছাড়া ডাব, শুটকি, শুকনো এবং টকজাতীয় ফলসহ কোন প্রকার আচার/চাটনী খাওয়া যাবে না। তবে ডাক্তারের দেওয়া খাদ্য তালিকা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

বিঃ দ্রঃ কারো যদি এক বা একাধিক লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় তবে দেরি না অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা নেওয়াই উত্তম।

https://bn.wikipedia.org/wiki/বৃক্ক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *