কম্পিউটারের ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস

আমরা কম্পিউটারের সাথে বিভিন্ন ডিভাইস দেখতে পায়। এগুলোর কোনটি কি কাজ করে তা জানলেও আমরা জানিনা কোনটি কি ধরণের ডিভাইস। কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত কিছু ডিভাইস হচ্ছে ইনপুট আর কিছু আউটপুট। এই ইনপুট(input) ও আউটপুট(output) ডিভাইসের মধ্যে যে জিনিসটি সংযোগ স্থাপন করা তা হলো কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বা সিপিইউ( CPU = Central Processing Unit )।

ইনপুট ডিভাইস কি

যে সব যন্ত্র বা ডিভাইস দ্বারা কম্পিউটারে কোন তথ্য দেওয়া হয় সেগুলো কে বলা হয় ইনপুট ডিভাইস(Input Device)। যেমন- কী-বোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, ওসিআর, ওএমআর, ডিজিটাল ক্যামেরা, লাইট পেন, টাচ স্কীন, জয়স্টিক ইত্যাদি। computer input device ki

নামগুলো দেখেই বুঝতে পারছেন এই ডিভাইসগুলো দিয়ে আমরা কম্পিউটারকে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করি। যেহেতু এগুলো দিয়ে আমরা কম্পিউটারকে ইনপুট প্রদান করি সেজন্যে এগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বলে।একেকটি ইনপুট ডিভাইসের কাজ একেক রকম। তবে ইনপুট ডিভাইসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিভাইস হলো কী-বোর্ড এবং মাউস।

ইনপুট ডিভাইস (কী-বোর্ড ও মাউস )

কী-বোর্ডঃ কম্পিউটারে লেখালিখির কাজের জন্য কী-বোর্ড (keyboard ) ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে লেখা টাইপ করা হয় এবং নির্দেশ প্রদান করা হয়। এটি বহুল ব্যবহৃত ইনপুট ডিভাইস। কী-বোর্ডের অনেকগুলো কী(key) রয়েছে। যেমন- নাম্বার কী দিয়ে সংখ্যা ইনপুট দেওয়া হয়, এলফাভেট কী দ্বারা অক্ষর বা বর্ণ ইনপুট করা হয়, ফাংশন কী দিয়ে বিভিন্ন নির্দেশ ইনপুট করা হয়।

মাউসঃ মাউসের কাজ হলো বিভিন্ন ধরণের নির্দেশ প্রদান করা। কম্পিউটার ব্যবহারে সুবিধা থাকায় মাউস(Mouse) খুব জনপ্রিয় ইনপুট ডিভাইস। কোন কিছু নির্বাচন করতে হলে সহজেই তার উপর মাউস পয়েন্টার নিয়ে সিলেক্ট করা যায়। ছবি আঁকা ও গ্রাফিক্সের কাজ করতে মাউস বেশি ব্যবহৃত হয়। মাউস বাটন চেপে কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্ক্যানারঃ স্ক্যান করার জন্য এই ইনপুট ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে লেখা বা ছবিকে কম্পিউটারে ইনপুট করা হয়। স্ক্যানার(Scanner) এর মধ্যে যা রাখা হয় তার অনুলিপি কম্পিউটারে চলে আসে এবং তা সংরক্ষণ বা এডিট করা যায়। কাগজের ডকুমেন্ট স্ক্যানার ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো হয়।

জয়স্টিকঃ কম্পিউটারে গেমস খেলার জন্য জয়স্টিক (Joystick)ব্যবহার করা হয়। এটি শিশুদের প্রিয় ইনপুট ডিভাইস। জয়স্টিকের খাড়া দণ্ডকে হাত দিয়ে মুভ করলে কম্পিউটারের মাউস পয়েন্টার নাড়াচাড়া করে।

এছাড়া গ্রাফিক্স, ভিডিও, অডিও ইত্যাদি কাজের জন্য ইনপুট ডিভাইস হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, ভিডিও ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ইত্যাদি।

আউটপুট ডিভাইস কি

যে ডিভাইস এর মাধ্যমে আমরা কম্পিউটার থেকে কাজের ফলাফল পায় তাকে আউটপুট ডিভাইস (Output Device) বলে। মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার, স্পীকার, এলসিডি প্যানেল ও ভিডিও প্রজেক্টর ইত্যাদি। computer output device ki

মনিটর

মনিটরঃ মনিটরের মাধ্যমে আমরা যেকাজ করছি তার ফলাফল দেখতে পায়। মনিটর(Monitor) হলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আউটপুট ডিভাইস। এর সাহায্যে লেখা, গ্রাফ, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি দেখা যায়।

প্রিন্টারঃ আমাদের লেখালেখি বা ছোট আকারের ছবি এসব মুদ্রণের কাজ করে প্রিন্টার(Printer)। কম্পিউটারে টাইপ করা কোন টেক্সট ডকুমেন্ট ছাপাতে এই আউটপুট ডিভাইস প্রয়োজন হয়। যেকোন সাদা-কালো বা রঙিন ছবি প্রিন্ট করা যায়। এছাড়া ব্যানার বা বড় আকারের পোস্টার করার ক্ষেত্রে বিশেষ ধরণের প্রিন্টার ব্যবহার করা হয়। আবার বাড়ির নক্সা বা ভূমি জরিপের নক্সার কাজের জন্য ব্যবহার করা হয় প্লটার।


স্পীকারঃ এই যে আমরা গান শুনি বা যেকোন শব্দ শুনার জন্য আউটপুট ডিভাইস হিসাবে ব্যবহার করি স্পীকার(Speaker)। একে সাউন্ড বক্সও বলা হয়। স্পীকারের মত হেডফোন বা এয়ারফোন হলো আউটপুট ডিভাইস তবে হেডফোনের সাথে থাকা মাইক্রোফোন হলো ইনপুট ডিভাইস।

প্রজেক্টেরঃ ছবি বা লেখাকে অনেক বড় করে প্রদর্শন করার জন্য প্রজেক্টের(Projector) ব্যবহার করা হয়। প্রজেন্টেশন করতে এই আউটপুট ডিভাইস প্রয়োজন হয়। বর্তমানে একই সাথে ছবি ও শব্দ শুনতে ভিডিও প্রজেক্টর বা এলসিডি প্যানেল আউটপুট ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।

যদি কেউ কম্পিউটারে কাজ করার সময় কী-বোর্ড ও মাউসের সাহায্যে তথ্য বা নির্দেশ দেন। এটি হচ্ছে ইনপুট ডিভাইস। অন্যদিকে নির্দেশিত তথ্যের ফলাফল তিনি দেখছেন মনিটরে। তাই এটি হচ্ছে আউটপুট ডিভাইস। বিডি টুইটের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *