রাঙামাটি ভ্রমণ – এম এ হাশেম কলেজ (মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট)

রাত ১ টায় রাঙামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলাম। গাড়িতে উঠার পর আসে বন্যা। সম্পন্ন বাস ডুবে যায় আনন্দের এই বন্যায়। গান, গল্প, লটারির আয়োজন সহ অনেক কিছু। কিন্তু চট্টগ্রাম পার হওয়ার পর সবার মাথা ঘুরছে। আসলে মাথা না রাঙামাটির আঁকাবাঁকা রাস্তায় বার বার গাড়ি মোড় নিচ্ছিল। মোড় নেওয়ার সময় কেউ কেউ বলে উঠে ‘ঘুরের ঘুরের’।

ভোর ৫ টা ৩০ মিনিটে পৌছে যায় মূল শহরে। সেখানে একটি ভাড়া করা হোটেলে আমরা ফ্রেস হয়ে আসার পর সকালের নাস্তা ও টি-শার্ট বিতরণ করা হয়। 

সকাল ৮ টায় আমরা অবস্থান করি ‘হলিডে কমপ্লেক্স রাঙামাটি’ । কিন্তু সেখানে সবাই শরীরের শিরা – উপশিরায় কি যেন একটা অনুভব করে। কি হয়েছে সবার? না তেমন কিছু না। ঝুলন্ত ব্রিজে দাঁড়ানোর পর কাপ্তাই হ্রদের ভোরের বাতাস শরীরে অন্যরকম অক্সিজেন সরবরাহ করে তাই আর কি! 

সকাল ১১ টায় নৌকায় করে ভ্রমণ করি ‘কাপ্তাই হ্রদ’। দু পাশে পাহাড় মাঝখানে জল রাশি। মাঝে মাঝে দেখা মেলে দ্বীপ পাহাড়। হঠাৎ সবাই চিৎকার করে উঠে  ‘ও ও ও’। না কোন সমস্যা হয়নি। অন্য নৌকায় জেলে বা যাত্রীদের দেখে হাত নেড়ে ও শব্দ করে আনন্দ প্রকাশ করছে। চলন্ত নৌকায় পানি ধরার আনন্দ কি তা যে ধরেনি তাকে বুঝানো যাবে না। কিন্তু মুহুর্তেই আনন্দ ভয়ে রূপ নেয় পাহাড়ের উপর বিশাল মানব দেখে। কেউ একজন বলে উঠলো এ যে বৌদ্ধ মূর্তি। যাক বাঁচা গেল। 

বেলা ১২ টায় আমরা ‘সুবলং ঝর্ণার’ দেখা পায়। ঝর্ণার অপরূপ দৃশ্য দেখে চোখ জুড়ালেও মন ভরেনি। কারণ পানির প্রবাহ ছিল কম। ঝর্ণা দেখবো তবে গোসল করবো না তা কি হয়?  তাই আমরা গোসল করার জন্য ঠিক করি একটু পাশে থাকা আরেকটি বিশাল ঝর্ণাকে। ‘উফ’ কি ঠান্ডা পানি। আনন্দ মানে না ঠান্ডাকে। জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের গোসল।

দুপুর ২ টায় আমরা যায় ভোজনের উদ্দেশ্যে। তবে হোটেলে নয় আমাদের আয়োজন করা খাবার। ‘ওয়াও’ চারদিকে হ্রদের পানি, উপরে গাছের ছায়া আর নিচে চলছে আমাদের খাওয়া। ভাবতেই অবাক লাগে কলেজের সব বন্ধুরা একসাথে খাচ্ছি যার আনন্দই আলাদা।

কিছুক্ষণ পর প্রায় বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে সবাই এক সাথে জড়ো হয়েছে। দূর থেকে বুঝা যাচ্ছে ঘটনা একটা ঘটেছে। আর তা হলো লটারির ড্র। দশটি পুরস্কারের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ‘জিয়াউল হক জিয়া’। সবাই পুরস্কার না পেলেও আনন্দ কিন্তু পেয়েছে। এটাই তো স্মৃতি।

সন্ধ্যা ৬ টা কেনা-কাটা পর্ব রাঙামাটির ‘রিজার্ভ বাজারে’। কেউ করে কেনা-কাটা কেউ করে দামা-দামি আবার কেউ করে ঘুরা-ঘুরি।

সন্ধ্যা ৭ টা – আর না আর না। ক্লান্ত শরীর, আসছে ঘুম, চলছে গাড়ি বাড়ির পথে। আল্লাহর রহমতে সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফল হলো আমাদের ভ্রমণ। সব আনন্দ কি লেখে প্রকাশ করা যায়? ‘আহা কি আনন্দ আকাশে – বাতাসে’।

কিছু তথ্যঃ-

ভ্রমণের তারিখঃ ২১/১০/২০১৮ ইং

স্থানঃ নোয়াখালী টু রাঙামাটি

সদস্য সংখ্যাঃ ৮০ জন।

প্রিয় শিক্ষকঃ তপন চন্দ্র কুরী ( মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের প্রধান )

টুর ম্যনেজমেন্ট কমিটিঃ মোঃ ইসমাইল হোসেন, গোলাম সারোয়ার, মোঃ জিন্নাত আলী, সালমা ইসলাম, আবরার আসির সহ আরো কয়েকজন।