মাহে রমজান

রোযা ফারসি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ আত্মসংযম, বিরত থাকা ইত্যাদি। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সাওমের নিয়্যাতে সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও যৌন মিলন থেকে বিরত থাকাকে সাওমা বা রোযা বলে। roja sobder ortho ki আজ আমরা রোযা সম্পর্কে যা জানবো তাহলো-

  1. রোযা সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনা
  2. রোযা সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা
  3. সিয়াম বা রোযার ফরয সমূহ
  4. রোযার নিয়ত
  5. ইফতারের নিয়ত
  6. সিয়াম বা রোযা ফরয হওয়ার শর্ত
  7. সিয়াম বা রোযা ভঙ্গের কারণ
  8. যেসব কারণে সিয়াম বা রোযা ভঙ্গ হয় না
  9. যেসব কারণে সিয়াম বা রোযার কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়
  10. সিয়াম বা রোযার কাফফারা
  11. যেসব কারণে সিয়াম বা রোযা ভঙ্গ করা জায়েজ

রোযা সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনা

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে। যেমনিভাবে ফরয করা হয়ছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যান তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার”। (সূরা বাক্বারা- ১৮৩)
সুতরাং বলা যায় যে তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম সিয়াম পালন করা।

রোযা সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা

হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, কেবল রোযা ছাড়া। কারণ তা আমার(আল্লাহর) জন্য আমি(আল্লাহ) তার প্রতিদান দেব। আর রোযা ঢাল স্বরূপ। কাজেই তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখে, সে যেন অশ্লীল কাজ না করে শোরগোল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে ঝগড়া করে তাহলে তার বলা উচিত, আমি রোযাদার। যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তার কসম! রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর মিশকের চেয়েও সুগন্ধযুক্ত। রোযাদারের দুটি আনন্দ, যা সে লাভ করবে, একটি হচ্ছে সে ইফতারির সময় খুশি হয়। আর দ্বিতীয়টি লাভ করবে যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে তার রোযার কারণে আনন্দিত হবে।(বুখারী ও মুসলিম)

রোযার ফরয সমূহ

  • নিয়ত করা।
  • সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা।
  • সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যৌন বাসনা পূরণ থেকে বিরত থাকা।

রোযার নিয়ত

রোযা রাখার জন্যে নিয়ত করতে হয়। রোযার নিয়ত হলো- ” নাওয়াইতু আন আছুমা গাদামঁ মিনঁ শাহরি রামাদানাল মুবারাকি ফারদাল লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বাব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আন্তাস সামীউল আলীম“। এর অর্থ হলো – ‘হে প্রভু, আমি আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। সুতরাং তুমি, তোমার পক্ষ হতে তা কবুল কর নিশ্চয় তুমি সর্বশ্রেষ্ট শ্রোতা এবং সর্বজ্ঞ’। rojar niyot ki

ইফতারের নিয়ত

ইফতার করার পূর্বে দোয়া করতে হয়। তাহলো- “আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু“। এর অর্থ হলো- ‘হে আল্লাহ, তোমার জন্যই আমি রোযা রেখেছি এবং তোমার প্রদত্ত জীবিকা দ্বারাই রোযা ভঙ্গ করছি’। Eftarer dua ki

রোযা ফরয হওয়ার শর্ত

  • মুসলিম হওয়া।
  • বালেক হওয়া।
  • সিয়াম পালনে অক্ষম না হওয়া।

রোযা ভঙ্গের কারণ

  • কুলি করার সময় গলার ভিতর পানি চলে গেলে।
  • বলপূর্বক গলার ভিতর কোন কিছু ঢেলে দিলে।
  • নাকে অথবা কানে ঔষুধ ঢেলে দিলে।
  • ইচ্ছা করে মুখভর্তি বমি করলে
  • মুখে বমি আসার পর পুনরায় তা গিলে ফেললে।
  • পায়খানার রাস্তায় পিছকারী দিলে।
  • নিদ্রাবস্থায় পেটের ভিতর কিছু ঢুকালে।
  • রাত আছে মনে করে অথবা সূর্য ডুবে গেছে মনে করে কিছু খেলে।
  • দাঁত থেকে ছোলা পরিমাণ কিছু বের করে তা গিলে ফেললে।
  • জবরদস্তিমূলক সঙ্গম করলে।

উল্লেখ্য এগুলোর জন্য শুধু কাযা রোযা রাখতে হয়। roja vangar karon ki

যেসব কারণে রোযা ভঙ্গ হয় না

  • চোখে সুরমা লাগালে।
  • শরীরে তেল মালিশ করলে।
  • অনিচ্ছাকৃত বমি করলে।
  • থুথু গেলে ফেললে।
  • দাঁতে আটকে থাকা খাবার ছোলা পরিমাণ হতে কম হলে এবং তা গিলে ফেললে।
  • মেছওয়াক করলে।
  • কানের ভিতর পানি ঢুকলে।
  • অনিচ্ছাকৃত ধুলাবালি, মশা-মাছি বা ধুঁয়া গলার মধ্যে গেলে।
  • স্বপ্নদোষ হলে।
  • ভুলবশত পানাহার বা স্ত্রী সঙ্গম করলে।

যেসব কারণে রোযার কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়

১. রোযা রেখে ইচ্ছা করে পানাহার করলে।

২. রোযা রেখে যৌন বাসনা পূরণ করলে।

রোযার কাফফারা

ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করলে কাফফারা আদায় করতে হবে। এজন্য একাধারে ৬০ টি রোযা রাখতে হবে এবং যে রোযার কাফফারা দেয়া হবে সে রোযার কাযাও আদায় করতে হবে। সুতরাং একাধারে ৬১ টি রোযা রাখতে হবে। তবে একই রমজান মাসের কাফফারা একবার আদায় করলেই হবে। অর্থ্যাৎ কেউ একই রমজান মাসে ৫ টি রোজা না রাখলে তাকে কাফফারা ও কাযা মিলিয়ে ৬০+৫=৬৫টি রোযা রাখতে হবে।

কাফফারা আদায়ের আরেকটি পদ্ধতি হলো ৬০ জন মিসকীনকে দুবেলা পেট ভরে খাওয়াতে হবে। অথবা তারা পেট ভরে খেতে পারে এমন সমপরিমাণ অর্থ বা গম দিলেও কাফফারা আদায় হবে। rojar kaffara kivabe adai korte hobe

যেসব কারণে রোযা ভঙ্গ করা জায়েজ

  • কেউ যদি এমন অসুস্থ হয়ে যে, রোযা রাখলে তার জীবন নাশের সম্ভাবনা রয়েছে বা তার দূরারোগ্য অসুখ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
  • সন্তান সম্ভবা এবং প্রসূতি মাতা ও দুগ্ধ পোষ্য সন্তানের বিশেষ ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে।
  • স্ত্রীলোকের ঋতুস্রাব দেখা দিলে, সন্তান প্রসব হলে নিফাসের সময়।
  • কোন বৃদ্ধ শক্তিহীন হলে।
  • সফরকালে।

উপরোক্ত কারণে রমজান মাসে রোজা না রেখে সামর্থ্য ব্যক্তি পরে সেগুলোর কাযা আদায় করতে হবে। আল্লাহ তায়াল্লা আমাদেরকে সুস্থ শরীরে এবং যথাযত নিয়মে রমজানের রোযা রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।