দোয়া কবুলের ১০টি উত্তম সময়

অনেকে মনে করে দোয়া বা মুনাজাত শুধু নামাজের পর করতে হয়। আসলে এটি সবসময় করা যায়। আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের প্রার্থনা কবুল হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। দুআ করার জন্য এমন কিছু সময় আছে যখন দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আজ আমরা জানবো দোয়া কবুলের ১০টি উত্তম সময় সম্পর্কে।

  1. বৃষ্টির সময়ঃ আমরা কি বৃষ্টির সময় দোয়া করি? দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম সময় হলো বৃষ্টির সময়। তার মানে বৃষ্টি হলে আমরা দোয়া করলে তা মঞ্জুর হবে ইনশাআল্লাহ। তাহলে এখন থেকে বৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন তো?
  2. আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ঃ নামাজের সময় হলে আযান দেওয়া হয় আর মসজিদে জামাতের ঠিক আগে ইকামাত দেওয়া হয়। এই আযান থেকে ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়টুকু দোয়া কবুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমরা কি আযান দেওয়ার সাথে সাথে আমাদের কাজ থেকে বিরতি নিয়ে থাকি? আল্লাহর কাছে দোয়া করি? অথচ আমরা আযানের পরেও আমাদের হাতের কাজ শেষ করি না। মনে করি জামাতের এখনো অনেক দেরি। আরেকটু ফেসবুকে থাকি, আরেকটু কম্পিউটারে কাজ করি, আমার হাতের কাজটা আরেকটু শেষ করি। এগুলো থেকে আমাদের পরিবর্তন হতে হবে। সুতরাং আযান থেকে ইকামাতের মধ্যবর্তী সময় আমরা বেশি বেশি দোয়া করবো।
  3. সফরে থাকা অবস্থায়ঃ আমরা যখন একস্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করি তখন দোয়া কবুলের অন্যতম সময়। কিন্তু আমরা কি সফরে থাকা কালে দোয়া করি? আপনি যখন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চে থাকেন তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। মুসাফির থাকা অবস্থায় দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করে নেন।
  4. অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলেঃ কোন রোগীকে দেখতে গেলে আমরা দোয়া করতে পারি। কেননা ইহা দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ সময়। অসুস্থ লোককে দেখতে যাওয়া সুন্নাত। আমরা কি আমাদের প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন অসুস্থ হলে দেখতে যায়? দেখতে গেলে কি দোয়া করি?
  5. রাতের শেষ তৃতীয়াংশেঃ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার ঠিক আগের সময়টা রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। তার মানে সুবহে সাদিকের আগে আমরা দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করে নেন। আমাদের রাতটা ঘুমেই কেটে যায়। আমরা শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারি। এই সময় আল্লাহ
  6. ইফতারের পূর্ব মূহুর্তেঃ ইফতার সামনে নিয়ে আমরা যখন আযানের অপেক্ষা করি তখন দোয়া কবুলের উত্তম সময়। অথচ এই সময়টা আমরা অলস বসে থাকি। একজন রোজাদার ব্যক্তি যখন ইফতার সামনে নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে নেন। এখন থেকে ইফতারের সময় দোয়া করবো তো?ইনশাআল্লাহ
  7. কদরের রাতেঃ রমজান মাসে শবে কদরের রাতে দোয়া কবুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন বিদায় এটি শ্রেষ্ঠ রাত। সুতরাং লাইলাতুল কদরের রাতে আমরা বেশি দোয়া করবো।
  8. জুম্মার দিনের দোয়াঃ সপ্তাহের সবচেয়ে পবিত্র দিন শুক্রবার। জুম্মার দিন এমন একটি সময় আছে যখন দোয়া কবুল হয়। তাই আমাদের উচিত জুম্মার দিনে আল্লাহর নিকট বেশি বেশি দোয়া করা।
  9. ফরজ সালাতের পরের দোয়াঃ ফরজ সালাত আদায়ের পর আমরা নিশ্চয়ই দোয়া। এই সময় দোয়া কবুল হয়। তাই আমাদের উচিত ফরজ নামাজের পরে একটু সময় নিয়ে আল্লাহর কাছে আরও বেশি প্রার্থনা করা।
  10. আরাফার দিনের দোয়াঃ হজ্জের সময় আরাফাতের ময়দানে দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় আল্লাহ সকালের দোয়া কবুল করেন।

দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে কখনোই ধৈর্য্য হারানো যাবে না। নিজেকে হারাম খাদ্য ও উপার্জন থেকে দূরে রাখতে হবে। কেননা হারাম অর্থ আয় করলে এবং হারাম খাবার খেলে দোয়া কবুল হয় না। নিজেকে গুনাহমুক্ত রেখে ইবাদতের মাধ্যমে দোয়া করলে আল্লাহ অবশ্যই দোয়া কবুল করবেন। ইনশাআল্লাহ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *